এটা কোনো অনুবাদ নয়। এটা বাংলাদেশের আবহাওয়া, বাংলাদেশের গাছ, বাংলাদেশের বাজার আর বাংলাদেশের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্রে রেখে লেখা একটা হ্যান্ডবুক — যা একজন একেবারে নতুন পাঠককে ধাপে ধাপে একজন দক্ষ শিল্পীর পথে নিয়ে যাবে।
তবে বনসাই শুধু কৌশল নয়।
এটা হাজার বছরের একটা শিল্পধারা, যার শিকড় চীনের পেনজিং আর জাপানের জেন-দর্শনে। তাই এই বইয়ে যেমন আছে মাটির অনুপাত আর তারের প্যাঁচ, তেমনি আছে ওয়াবি-সাবি আর শূন্যস্থানের সৌন্দর্য।
কারণ “কেন” না বুঝলে “কীভাবে”টা নিছক মুখস্থবিদ্যা হয়ে থাকে। মুখস্থ করে পরীক্ষায় পাশ করা যায়, গাছ বাঁচানো যায় না। গাছ পরীক্ষার খাতা পড়ে না।
সব তথ্য যথাসম্ভব যাচাই করা হয়েছে। যেখানে ইতিহাস কিংবদন্তির সাথে মিশে গেছে — যেমন হান-যুগের উৎপত্তি বা জোড়াসাঁকোর সংযোগ — সেখানে স্পষ্টভাবে তা চিহ্নিত করা হয়েছে। কারণ সত্যনিষ্ঠাও এই বইয়ের অঙ্গীকার। যে শিল্প সময় নিয়ে সত্যি হয়ে ওঠে, তার বইয়ে বানানো গল্প থাকা মানায় না।
আরেকটা কথা।
এই বইয়ে আপনি যত ভুলের কথা পড়বেন, তার প্রায় প্রতিটাই আমি নিজে করেছি। কোনোটা একবার, কোনোটা তিনবার। শিকড় পচিয়েছি, ডাল ভেঙেছি, দোকানে ঠকেছি, অধৈর্য হয়ে সময়ের আগেই তার খুলে ফেলেছি। যে অভিজ্ঞতাগুলোর দাম আমি গাছের প্রাণ দিয়ে শোধ করেছি, সেগুলো আপনাকে বইয়ের দামে দিয়ে দিচ্ছি। লাভটা আপনারই।
বনসাই তাড়াহুড়োর শিল্প নয়।
আমরা এমন এক জাতি, যারা ছয় মাসে ইংরেজি শিখতে চাই, তিন মাসে ওজন কমাতে চাই, এক রাতে বড়লোক হতে চাই। সেই আমাদের হাতেই এসেছে এমন একটা শিল্প, যেখানে দশ বছর পরেও গাছ বলে — “একটু দাঁড়াও, আমি এখনো তৈরি হইনি।”
এই বই আসলে গাছ বানানোর বই নয়।
এই বই অপেক্ষা করতে শেখার বই। গাছটা তো একটা অজুহাত মাত্র।
শুভ যাত্রা।
— স্থপতি নিলয়